চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনের গড়া অভেদ্য প্রাচীর অবশেষে ভেঙে চুরমার হলো। টানা ৬৫০ মিনিট কোনো গোল না খেয়ে টুর্নামেন্টের দীর্ঘতম ক্লিন শিটের অনন্য রেকর্ড গড়েছিলেন এই স্প্যানিশ প্রাচীর। তবে শুক্রবার (১০ জুলাই) কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে শেষ পর্যন্ত তার এই রেকর্ডের অবসান ঘটে।
ম্যাচের ৪১তম মিনিটে টিমোথি কাস্তানের চমৎকার ক্রসে স্পেনের ডিফেন্ডার পাউ কুবারসিকে ফাঁকি দিয়ে দারুণ এক হেডে বল জালে জড়ান বেলজিয়ামের চার্লস ডি কেটেলিয়ারে। এর মাধ্যমে ম্যাচে ১-১ ব্যবধানে সমতা ফেরে তারা। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি স্পেন ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে এবং আগামী মঙ্গলবার সেমি ফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
তবে বেলজিয়ামই চলতি বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে স্পেনের জালে বল পাঠাতে সক্ষম হল, যার ফলে স্পেনের টানা ৬টি ম্যাচে ক্লিন শিট রাখার রেকর্ডটির সমাপ্তি ঘটল।
স্পেনের এই ঐতিহাসিক রেকর্ডের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে, যেখানে মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত ০-০ গোলে ড্র ছিল (পরবর্তীতে পেনাল্টি শুটআউটে মরক্কো জয়ী হয়)।
এরপর চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধেও গোলশূন্য ড্র করে লা রোখারা। এরপর টানা চার ম্যাচে কোনো গোল না খেয়ে তারা কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছিল।
নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের পথেই সিমন আগের ৫১৭ মিনিটের ক্লিন শিটের রেকর্ডটি ভেঙে নিজের নাম উপরে তুলে নেন। এর আগে ১৯৯০ সালে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে টানা ৫ ম্যাচে কোনো গোল না খেয়ে ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ওয়াল্টার জেঙ্গা এই রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছিলেন।
২৯ বছর বয়সি উনাই সিমনের এই গোল না খাওয়ার যাত্রা শুরু হয়েছিল মূলত ২০২২ সালে কাতারে, যখন গ্রুপ পর্বের ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হারের ম্যাচে তিনি মাঠে নেমেছিলেন।


